২১ শে এপ্রিল, ২০১২ ।। দূর থেকে কে জানি আমাকে বিজাতীয় ভাষায় নাম ধরে ডাকছে। চোখ খুলতেই দেখি ঘরটা আলোয় ভেসে যাচ্ছে, আর আমার বিছানার পাশে সেই মেয়েটা সমানে আমাকে ডেকে যাচ্ছে। মনে পড়ে গেল, আমি কোথায় কি কারণে এসেছি এসব। কালকে রাতে দেরী করে ঘুমানো হয়েছে, তার উপর ছিল যাত্রার ধকল। আমি আমার কক্ষসঙ্গীর নাম মনে করার চেষ্টা করলাম। রাতে ঘুমানোর আগে কথা হয়েছে একটু। ডালিয়ার বাসা সুদানে, তবে সে দক্ষিণ আফ্রিকাতে পি এইচ ডি করছে কেমিস্ট্রিতে। আমি আমার অভ্যাসমত মোবাইলের অ্যালার্ম বন্ধ করে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। ডালিয়া ডেকে না দিলে নির্ঘাত মিস করতাম আজকের অনুষ্ঠান। তাড়াতাড়ি করে রেডী হয়ে বের হয়ে আসলাম। আমাদের হোটেলের সাথে ব্রেকফাস্ট included। হোটেলের রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেয়ে নিতে হবে আর আটটার দিকে সেখান থেকে বাসে করে সবাইকে নিয়ে যাওয়া হবে বিবলিওথিকা আলেকজান্দ্রিয়াতে যা নতুন আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরীর পোশাকী নাম।
ঘর থেকে বের হয়ে দুই চোখ জুড়ায়ে গেল। দু'কদম গেলেই নীল ভূমধ্যসাগর।বড় বড় পাথরের চাই ফেলে হোটেলকে সমুদ্র থেকে সুরক্ষিত করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেস্টুরেন্টে এসে দেখি বেশির ভাগই আমাদের এই কনফারেন্সের লোকজন। ঐখানে অনেকের সাথে পরিচয় হল। ডালিয়া আরবী স্পিকিং আর ওর ইউনিভার্সিটির আরো কয়েকজন দেখলাম আসছে। আমাকে ওদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। বেশি দেরী না করে আমরা বাসে করে রওনা দিলাম। বিবলিওথিকা আলেকজান্দ্রিয়ার আর্কিটেকচারাল সৌন্দর্য দেখার মত। গেইট দিয়ে ঢুকে বিশাল এক চত্ত্বর। তার ডান দিক দিয়ে মেইন লাইব্রেরী বিল্ডিং, সোজা গেলে প্ল্যানেটেরিয়াম আর বাম পাশে কনফারেন্স সেন্টার। আমরা সেখানে ঢুকে সবাই যার যার কনফারেন্স কিটস সংগ্রহ করলাম রেজিস্ট্রেশন বুথ থেকে। TWAS.BVA.NXT দের নিয়ে কনফারেন্সটা হবে small theater এ। যার যারে পোস্টার সেশনে পোস্টার দেয়ার কথা ছিল, তারা পোস্টার গুলো টাঙ্গিয়ে দিয়ে থিয়েটারে গিয়ে বসলাম। ঠিক সময়মত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করলেন Center for Special Studies and Programs (CSSP) এর পরিচালক মোহাম্মদ এল ফাহাম।পরিচয় করিয়ে দিলেন নতুন একটা exercise এর সাথে। প্রথমে নিজের ডান হাত উপরে তোল। এবার সেটাকে পকেটে বা ব্যাগে ঢুকাও, মোবাইল ফোন টা বের করে আন। এরপর নিজের বাম হাতটা উঁচু কর, মোবাইলের সুইচটা বন্ধ কর অথবা সাইলেন্ট কর, এবং সেটাকে পকেটে ঢোকাও। এটা যেকোন মিটিং এর জন্য আসলেই জরুরী একটা exercise। মিটিং এর মাঝখানে মোবাইল ফোনে কথা বলা একটা bad culture.
TWAS এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রোমেন মুরেঞ্জি বেশ inspiring কিছু কথা বললেন। কফি ব্রেক এর সময়ে পরিচয় হল ঘানা, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা participants দের সাথে। কে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসছে , কি করে এইসব আলোচনা করে সময় কেটে গেল। কফি ব্রেকের পরে সেশন টা ছিল উন্নয়নশীল দেশগুলো বিজ্ঞান গবেষণায় যেসব বাঁধার সম্মুখীন হয়, তাদের অবস্থান কোথায় এবং এর থেকে বের হয়ে আসতে কি করণীয় সে সম্পর্কিত। ২৩ টি ভিন্ন দেশ থেকে এই কনফারেন্সে বিজ্ঞানীরা অংশগ্রহণ করেছে। লাঞ্চ সারলাম এক তিউনেশিয়ান পরিবারের সাথে। খাবার মোটামোটি ছিল, বাংলাদশি স্বাদে যদিও সেরকম মজা লাগলনা, তবে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন স্বাদের খাবার পরীক্ষা করতে আমার বেশ ভাল লাগে।
লাঞ্চের পরের সেশনটা খুব আকর্ষষণীয় ছিল, কিভাবে সৃজনশীলতা এবং ইনোভেশন প্রোমোট করতে হয় তার উপর। ড: রামী আজিজ এর টক বেশ মজা লাগল, তিনি বললেন কিভাবে ফুলের ছবি আঁকতে বললেই আমরা সবাই একই রকম গৎবাধা একধরণের ফুলের ছবি আঁকি। আমরা যদি ফুল আঁকা না শিখে একটা ফুল দেখে নিজে নিজে আঁকার চেষ্টা করতাম, একেকজন একেক ভাবে আঁকতাম। ছোটবেলা থেকে এভাবেই আমরা অনুকরণ করতে শিখি যা সৃজনশীলতা নষ্ট করে দেয়। কফিব্রেকের সময়ে একটা ম্যারেজ প্রোপোজাল পেলাম নাইজেরিয়ান এক লম্বা কৃষ্ণাঙ্গের কাছ থেকে :P । পরিচয় হল পাকিস্তানে পি এইচ ডি রত আরেকজন বাংলাদেশী অংশগ্রহনকারীর সাথে। এর পরে ছিল ডিসকাশন সেশন। সবাই ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমস্যা এবং সমাধান নিয়ে আলোচনা করল। অবাক হয়ে দেলাম সব দেশেই সমস্যাগুলো মোটামোটি একরকম, তার পরেও অনেক ভিন্নতা রয়েছে। যেমন নাইজেরিয়াতে পি এইচ ডি শেষ করে আসলে তার জন্য ভাল চাকুরী আছে, যা বাংলাদেশে নেই।
প্রথম দিনের মত কনফারেন্স শেষে বাসে করে আমাদের হোটেলে পৌঁছে দিল।অনেকক্ষণ হেঁটে বেড়ালাম খালি পায়ে ভূমধ্যসাগরের তীরে। অদ্ভূত সুন্দর অনুভূতি। ফেরার পথে সমুদ্র তীরে বসে কিছুক্ষণ গল্প হল কেনিয়ান কয়েকজন ছেলের সাথে , তারা লবণ সহিষ্ণু মাছের উপর কাজ করছে। জেনেটিকস,জেনেটিকালি মডিফা্ইড অরগানিজম নিয়ে বিতর্ক, গবেষণা কালচার এসব নিয়ে অনেক্ষণ কথা হল। রাতে আমি আর ডালিয়া একটু বের হয়ে KFC থেকে খেয়ে আসলাম।
ঘর থেকে বের হয়ে দুই চোখ জুড়ায়ে গেল। দু'কদম গেলেই নীল ভূমধ্যসাগর।বড় বড় পাথরের চাই ফেলে হোটেলকে সমুদ্র থেকে সুরক্ষিত করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেস্টুরেন্টে এসে দেখি বেশির ভাগই আমাদের এই কনফারেন্সের লোকজন। ঐখানে অনেকের সাথে পরিচয় হল। ডালিয়া আরবী স্পিকিং আর ওর ইউনিভার্সিটির আরো কয়েকজন দেখলাম আসছে। আমাকে ওদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। বেশি দেরী না করে আমরা বাসে করে রওনা দিলাম। বিবলিওথিকা আলেকজান্দ্রিয়ার আর্কিটেকচারাল সৌন্দর্য দেখার মত। গেইট দিয়ে ঢুকে বিশাল এক চত্ত্বর। তার ডান দিক দিয়ে মেইন লাইব্রেরী বিল্ডিং, সোজা গেলে প্ল্যানেটেরিয়াম আর বাম পাশে কনফারেন্স সেন্টার। আমরা সেখানে ঢুকে সবাই যার যার কনফারেন্স কিটস সংগ্রহ করলাম রেজিস্ট্রেশন বুথ থেকে। TWAS.BVA.NXT দের নিয়ে কনফারেন্সটা হবে small theater এ। যার যারে পোস্টার সেশনে পোস্টার দেয়ার কথা ছিল, তারা পোস্টার গুলো টাঙ্গিয়ে দিয়ে থিয়েটারে গিয়ে বসলাম। ঠিক সময়মত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করলেন Center for Special Studies and Programs (CSSP) এর পরিচালক মোহাম্মদ এল ফাহাম।পরিচয় করিয়ে দিলেন নতুন একটা exercise এর সাথে। প্রথমে নিজের ডান হাত উপরে তোল। এবার সেটাকে পকেটে বা ব্যাগে ঢুকাও, মোবাইল ফোন টা বের করে আন। এরপর নিজের বাম হাতটা উঁচু কর, মোবাইলের সুইচটা বন্ধ কর অথবা সাইলেন্ট কর, এবং সেটাকে পকেটে ঢোকাও। এটা যেকোন মিটিং এর জন্য আসলেই জরুরী একটা exercise। মিটিং এর মাঝখানে মোবাইল ফোনে কথা বলা একটা bad culture.
TWAS এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রোমেন মুরেঞ্জি বেশ inspiring কিছু কথা বললেন। কফি ব্রেক এর সময়ে পরিচয় হল ঘানা, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা participants দের সাথে। কে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসছে , কি করে এইসব আলোচনা করে সময় কেটে গেল। কফি ব্রেকের পরে সেশন টা ছিল উন্নয়নশীল দেশগুলো বিজ্ঞান গবেষণায় যেসব বাঁধার সম্মুখীন হয়, তাদের অবস্থান কোথায় এবং এর থেকে বের হয়ে আসতে কি করণীয় সে সম্পর্কিত। ২৩ টি ভিন্ন দেশ থেকে এই কনফারেন্সে বিজ্ঞানীরা অংশগ্রহণ করেছে। লাঞ্চ সারলাম এক তিউনেশিয়ান পরিবারের সাথে। খাবার মোটামোটি ছিল, বাংলাদশি স্বাদে যদিও সেরকম মজা লাগলনা, তবে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন স্বাদের খাবার পরীক্ষা করতে আমার বেশ ভাল লাগে।
প্রথম দিনের মত কনফারেন্স শেষে বাসে করে আমাদের হোটেলে পৌঁছে দিল।অনেকক্ষণ হেঁটে বেড়ালাম খালি পায়ে ভূমধ্যসাগরের তীরে। অদ্ভূত সুন্দর অনুভূতি। ফেরার পথে সমুদ্র তীরে বসে কিছুক্ষণ গল্প হল কেনিয়ান কয়েকজন ছেলের সাথে , তারা লবণ সহিষ্ণু মাছের উপর কাজ করছে। জেনেটিকস,জেনেটিকালি মডিফা্ইড অরগানিজম নিয়ে বিতর্ক, গবেষণা কালচার এসব নিয়ে অনেক্ষণ কথা হল। রাতে আমি আর ডালিয়া একটু বের হয়ে KFC থেকে খেয়ে আসলাম।





No comments:
Post a Comment