Friday, July 12, 2013

মিশরে অন্যরকম আট দিন - ৪

 ২২ শে এপ্রিল , ২০১২, এই কনফারেন্সের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা আমার মোটামোটি ভালো, সবার সাথে কথা বলে ভালো লেগেছে। এখানে আসার আগে কেমন জানি অস্থির লাগছিল, সেই অস্থিরটা কেটেছে। এখন সামনে অনেক গুলো দিন আছে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার। আমি এবার কোনও সিম কার্ড নেইনি, সেজন্যে আমার সাথে এবার ইন্টারনেটও নেই। তবে কনফারেন্স হলে সবসময়ই নেট থাকে বলে সমস্যা হয়না। রাতে ভুমধ্যসাগরের ঢেউ এর আওয়াজ শুনে শুনে ভালোই ঘুম হয়েছে। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে গেলাম। নাস্তা খাওয়ার সময় দিনের বেলা হোটেল এর অনেকগুলো ছবি তুললাম, আর সেই সাথে সাগরের। আর নতুন পাওয়া বন্ধুদের সাথেও চলল স্মৃতি ধরে রাখার উৎসব।

 হোটেল এর সকালের নাস্তাটা কমপ্লিমেন্টারি হিসাবে দেয়। বুফে সিস্টেম, অনেক কিছু থাকে। আমার কক্ষ সঙ্গী ডালিয়া খুব খাদ্য রসিক, অনেক কিছু নিয়ে খায় দেখি। আবার সাথের কিছু পাকিস্তানি মেয়ে ছিল ওরা আবার দেখি কিছুই খায়না, খুব সীমিত। আমাদের এই কনফারেন্স টা সত্যিকার অর্থেই অনেক গুলা দেশে মানুষের সমাহার, এক মেয়ের সাথে পরিচয় হল, সে তুরস্কের কিন্তু পি এইচ ডি করছে চায়না তে। হঠাত আমাদের টেবিল এ আরেকটা মেয়ে এসে বসল, কথা বলে জানা গেল সে আমাদের এখানে  ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর প্রতিনিধি হয়ে এসেছে। আজকে BIOVISION এর মূল কনফারেন্স শুরু, তাই আমাদের YOUNG SCIENTIST দের গ্রুপ ছাড়া বাকিরাও চলে আসছে। অনেক নতুন মুখ দেখলাম। নাস্তা শেষে সবাই চললাম বাস এর দিকে। বড় বড়  হলুদ রঙ এর দুইটা বাস। এরা আমাদের প্রতিদিন নিয়ে যায় আলেক্সান্দ্রিয়া লাইব্রেরি তে আমাদের কনফারেন্স স্পট এ   বাস এ পাশে বসল নাইজেরিয়ান ছেলে ইয়ু। কথায় কথায় ও আলাপ করছিল ওদের দেশের কথা,সেখানে পিএইচ ডি করে যেতে পারলে কাজ করার নাকি অনেক সুযোগ আছে।


যেতে যেতে চোখ পরে গেলো ডান দিকে। অসম্ভব সুন্দর ঘন নীল ভূমধ্যসাগর, গর্জন করে চলেছে। আমার মাঝে মাঝে খুব ঈর্ষা লাগে সমুদ্রের তীরের শহরবাসীদেরকে। কি সুন্দর মন খারাপ হলেই তারা চলে যেতে পারে সমুদ্রের বিশালতার কাছে। তীর ধরে হাঁটলেই তো মন ভালো হয়ে যাওয়ার কথা।

আমাদের বাস পৌঁছে গেছে alexandria লাইব্রেরি তে।  ঠিক করলাম আজকে কফি ব্রেকের সময় আশেপাশের জায়গাটা একটু ঘুরে দেখবো। আজকে আমাদের BVA.NXT fellow দের জন্যে বিশেষ সেশন এর শেষ দিন। বিকেল বেলা মূল conferrence শুরু হবে। আজকের সেশনগুলো কম চমকপ্রদ ছিলোনা। কফি ব্রেকএর সময় বের হলাম একটু আশেপাশে ঘুরে দেখতে। বেশি দূর গেলামনা, সেশন শুরু হয়ে যাবে। বাতাসে সমুদ্রের নোনা গন্ধ, সেই সাথে মিশে আছে কতো বছর আগের ঐতিহ্য। লাইব্রেরি এর  উলটো দিকেই alexandria ইউনিভার্সিটি। রাস্তা ঘাটে  প্রাচীন alexandria কে ধরা রাখের অনেক প্রয়াস।

ফিরে এলাম আবার conferrence এ . আমাদের সবার পোস্টার গুলো টাঙ্গানো আছে হল রুম এ। সেই সাথে রয়েছে ই- পোষ্টারিং এর ব্যবস্থা। কম্পিউটার এ যে কেও চাইলে automated presentation দেখতে পারবে পোস্টারটার, সেটা অবশ্য আমাদের তৈরি করে আগে জমা দিতে হয়েছে। ঘুরে ঘুরে দেখলাম অন্য পোস্টার গুলো। Biological সাইনস এ কতো রকমের কাজ। আমার সাথে এক মেয়ে বললো সেও  salinity টলারেন্স  নিয়ে কাজ করে, মাটির , অর্থাৎ মাটির লবনাক্ততা কীভাবে কমান যায়, তা নিয়ে, তার background অবশ্য chemistry।


আজকের লাঞ্চ এর পরে আমাদের ঘুরে দেখানো হল লাইব্রেরির ভিতর টা। আমি খুব উত্তেজিত ছিলাম এই টুর টা নিয়ে। লাইব্রেরি এবং এর ঐতিহ্য নিয়ে আমাদের guide অনেক কিছু  বললো। ১৯৭৪ এর দিকে alexandria তে এই নতুন লাইব্রেরি টা তৈরীর প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল অনেকটা সেই প্রাচীন লাইব্রেরি এর আদলে। উদ্দেশ্য ছিল এটি হবে আধুনিক যুগে জ্ঞান চর্চার তীর্থস্থান। এই লাইব্রেরি তে আপাতত আরব, ইংলিশ ও ফ্রেঞ্চ ভাষার বই  আছে। আর প্রায় আট মিলিয়ন বই রাখার মত সেলফ আছে। এখানে ৪ টি museum, ৪ টি আর্ট  gallery আছে, planitarium এবং manuscript restoration ল্যাবরেটরি ও আছে।  প্রধান রিডিং রুম টা অদ্ভুত সুন্দর আর বড়। ভালো লাগল অন্ধদের জন্যে ব্রেইল সিস্টেমের  আলাদা সেকশন আছে দেখে। এদের কাছে ইন্টারনেট archive এর একমাত্র backup থাকে জেনে রোমাঞ্চিত হলাম । Antiquity এবং  mansucript Museum গুলো ঘুরান শেষে আমাদের নিয়ে আসলো culturama section এ . এখানে অনেক বড় একটা panaromic স্ক্রীন আছে যেটা ৯ টি আলাদা ফ্ল্যাট স্ক্রীন এর সমন্বয়ে গঠিত। এখানে মিশরের ৩ টি সময়কে তুলে ধরা হয়েছে, প্রাচীন egypt থেকে শুরু করে, ইসলামিক civilization এবং শেষে মডার্ণ egypt। দেখলাম বিখ্যাত আলেক্সান্দ্রিয়া বাতিঘরের জায়গাটা। মনে হল আমিও চলে গেছি সেই প্রাচীন মিশর  এ ।




culturama শো শেষে আমরা আবার ফিরে এলাম কনফারেন্স  সেন্টার এ । মূল হল রুম এ অপেক্ষা করতে থাকলাম কখনো উদ্বোধন হবে bivision Alexandria ২০১২ এর। উদ্বোধন করলেন biobliothica alexandriar পরিচালক  ইসমাঈল serageldin। এরপরে কথা চলল আয়োজকদের Biovision এর এই  কনফারেন্স আয়োজন এর মুল উদ্দেশ্য নিয়ে। ২০১৩ তে ফ্রান্স এ পরবর্তী কনফারেন্স এর announcement হল। TWAS এবং bIOVISION  মিলে  কিভাবে উন্নয়নশীল দেশ গুলো উপকৃত হতে পারে তা নিয়ে কথা চলল।


রাতে হোটেল এ ফিরে কিছুক্ষণ ঘুরাফিরা করলাম আশেপাশে। রুমে এসে দেখি ডালিয়া বসে আছে ওর খাটে  , বললো আজকে স্পেসিয়াল কিছু খেতে ইচ্ছা করছে। ওর  কোন  arabic ফ্রেন্ড নাকি কায়রোতে থাকে যে ওকে জাফির নামে একটা রেস্তরার কথা বলেছে, যেখানে খুব ভালো সী ফুড  পাওয়া যায়। আমি চাইলে আমরা দুই জন মিলে সী ফুড খেতে জাফির এ যেতে পারি। আমার adventerous মন আনচান করে উঠল, এই সুযোগে শহরটা আরেকটু ভালো করা দেখা হবে। রেডী হয়ে নিলাম , রাতে alexandria তে ভালোই ঠান্ডা পড়ে। শালটা জড়িয়ে নিলাম গায়ে। রাস্তায় এসে খোঁজ করলাম ট্যাক্সির। বেশির ভাগি চেনেনা রেস্তরাটা।  একজন যাওবা চিনল দাম হেকে বসলো অনেক। ডালিয়া ভালো আরবীতে কথা বলতে পারে। ও ই কথা চালালো ট্যাক্সি ড্রাইভারের সাথে। অবশেষে উঠে বসলাম ট্যাক্সি তে । কিছুক্ষণ পর  দেখি taxi driver ডালিয়াকে আমার সম্পর্কে জিগেস করছে। আমার দেশ বাংলাদেশ শুনে সে খুব খুশি, তার পরিচিত কোনো এক বন্ধু নাকি বাংলাদেশী এবং সে এরশাদের নাম ভালো মতো জানে। আর এটাও তার কাছে একটা অবাক হবার মতো বিষয় যে আমাদের দেশের প্রধান মন্ত্রী একজন মহিলা। রাতের আলেক্সান্দ্রিয়া দেখতে দেখতে চললাম। একে তো অচেনা জায়গা,  তার উপরে রাতের বেলা, ভাষাও জানিনা এদের। চললাম আল্লাহর উপর ভরসা করে।  কিছুদুর আসার পড়ে আমাদের দুইজনেরি মনে হলো আমরা ঠিক পথে যাচ্ছি তো, জাফির এতো দূরে হওয়ার কথা না। চারপাশে ডক  এর বড় বড় container. আর নির্জন বস্তি মত এলাকা।  ঘড়িতে বাজে রাত সাড়ে নয়টা। যাই হোক অবশেষে জানে পানি আসলো সমুদ্রের তীরে নিয়ন বাতিতে জ্বলজ্বল করতে থাকা জাফির লেখা দেখে। এখানে মেন্যু সিস্টেম টা মজার। বরফের মধ্যে বিভিন্ন রকমের মাছ সাজানো। যেটা পছন্দ সেটা দেখে বলে দিতে হবে। আমরা কিছু ফিস ফ্রাই আর সী ফুড স্যুপ অর্ডার করলাম ।
স্যুপটা অসম্ভব মজার ছিল, তার উপর সমুদ্রের তীরে বসে খাওয়া। এরকম অভিজ্ঞতা আড়েকবাড় হয়েছিল ফিলিপাইনে ম্যানিলা বে  এর ধারে বসে। খাওয়া শেষে মনে হচ্ছিল বুঝি উঠতে পারবোনা। ওদিকে রাত অনেক হয়ে গেছে।  ভাগ্য ভালো  বের হয়েই একটা ট্যাক্সি পেয়ে গেলাম। এবার অনেক তাড়াতাড়ি চলে আসলো। বুঝলাম যাওয়ার সময় ভিড় এড়ানোর জন্যে ট্যাক্সিচালক ঘুরিয়ে নিয়ে গেছিল। আর তাছাড়া one way two way রাস্তার ঝামেলা তো আছেই।  হোটেল এ পৌঁছলাম ১১ টার  দিকে রুম এ ফিরে কাত  , সারাদিনের ধকল ... কে জানে সামনের দিনে কি অপেক্ষা করে আছে ।

Sunday, January 6, 2013

মিশরে অন্যরকম আটদিন - ৩

২১ শে এপ্রিল, ২০১২ ।। দূর থেকে কে জানি আমাকে বিজাতীয় ভাষায় নাম ধরে ডাকছে। চোখ খুলতেই দেখি ঘরটা আলোয় ভেসে যাচ্ছে, আর আমার বিছানার পাশে সেই মেয়েটা সমানে আমাকে ডেকে যাচ্ছে। মনে পড়ে গেল, আমি কোথায় কি কারণে এসেছি এসব। কালকে রাতে দেরী করে ঘুমানো হয়েছে, তার উপর ছিল যাত্রার ধকল। আমি আমার কক্ষসঙ্গীর নাম মনে করার চেষ্টা করলাম। রাতে ঘুমানোর আগে কথা হয়েছে একটু। ডালিয়ার বাসা সুদানে, তবে সে দক্ষিণ আফ্রিকাতে পি এইচ ডি করছে কেমিস্ট্রিতে। আমি আমার অভ্যাসমত মোবাইলের অ্যালার্ম বন্ধ করে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। ডালিয়া ডেকে না দিলে নির্ঘাত মিস করতাম আজকের অনুষ্ঠান। তাড়াতাড়ি করে রেডী হয়ে বের হয়ে আসলাম। আমাদের হোটেলের সাথে ব্রেকফাস্ট included। হোটেলের রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেয়ে নিতে হবে আর আটটার দিকে সেখান থেকে বাসে করে সবাইকে নিয়ে যাওয়া হবে বিবলিওথিকা আলেকজান্দ্রিয়াতে যা নতুন আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরীর পোশাকী নাম।

ঘর থেকে বের হয়ে দুই চোখ জুড়ায়ে গেল। দু'কদম গেলেই নীল ভূমধ্যসাগর।বড় বড় পাথরের চাই ফেলে হোটেলকে সমুদ্র থেকে সুরক্ষিত করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেস্টুরেন্টে এসে দেখি বেশির ভাগই আমাদের এই কনফারেন্সের লোকজন। ঐখানে অনেকের সাথে পরিচয় হল। ডালিয়া আরবী স্পিকিং আর ওর ইউনিভার্সিটির আরো কয়েকজন দেখলাম আসছে। আমাকে ওদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। বেশি দেরী না করে আমরা বাসে করে রওনা দিলাম। বিবলিওথিকা আলেকজান্দ্রিয়ার আর্কিটেকচারাল সৌন্দর্য দেখার মত। গেইট দিয়ে ঢুকে বিশাল এক চত্ত্বর। তার ডান দিক দিয়ে মেইন লাইব্রেরী বিল্ডিং, সোজা গেলে প্ল্যানেটেরিয়াম আর বাম পাশে কনফারেন্স সেন্টার। আমরা সেখানে ঢুকে সবাই যার যার কনফারেন্স কিটস সংগ্রহ করলাম রেজিস্ট্রেশন বুথ থেকে। TWAS.BVA.NXT দের নিয়ে কনফারেন্সটা হবে small theater এ। যার যারে পোস্টার সেশনে পোস্টার দেয়ার কথা ছিল, তারা পোস্টার গুলো টাঙ্গিয়ে দিয়ে থিয়েটারে গিয়ে বসলাম। ঠিক সময়মত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করলেন Center for Special Studies and Programs (CSSP) এর পরিচালক মোহাম্মদ এল ফাহাম।পরিচয় করিয়ে দিলেন নতুন একটা exercise এর সাথে। প্রথমে নিজের ডান হাত উপরে তোল। এবার সেটাকে পকেটে বা ব্যাগে ঢুকাও, মোবাইল ফোন টা বের করে আন। এরপর নিজের বাম হাতটা উঁচু কর, মোবাইলের সুইচটা বন্ধ কর অথবা সাইলেন্ট কর, এবং সেটাকে পকেটে ঢোকাও। এটা যেকোন মিটিং এর জন্য আসলেই জরুরী একটা exercise। মিটিং এর মাঝখানে মোবাইল ফোনে কথা বলা একটা bad culture. 

 

TWAS এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রোমেন মুরেঞ্জি বেশ inspiring কিছু কথা বললেন। কফি ব্রেক এর সময়ে পরিচয় হল ঘানা, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা participants দের সাথে।  কে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসছে , কি করে এইসব আলোচনা করে সময় কেটে গেল। কফি ব্রেকের পরে সেশন টা ছিল উন্নয়নশীল দেশগুলো বিজ্ঞান গবেষণায় যেসব বাঁধার সম্মুখীন হয়, তাদের অবস্থান কোথায় এবং এর থেকে বের হয়ে আসতে কি করণীয় সে সম্পর্কিত। ২৩ টি ভিন্ন দেশ থেকে এই কনফারেন্সে  বিজ্ঞানীরা অংশগ্রহণ করেছে। লাঞ্চ সারলাম  এক তিউনেশিয়ান পরিবারের সাথে। খাবার মোটামোটি ছিল, বাংলাদশি স্বাদে যদিও সেরকম মজা লাগলনা, তবে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন স্বাদের খাবার পরীক্ষা করতে আমার বেশ ভাল লাগে।


লাঞ্চের পরের সেশনটা খুব আকর্ষষণীয় ছিল, কিভাবে সৃজনশীলতা এবং ইনোভেশন প্রোমোট করতে হয় তার উপর। ড: রামী আজিজ এর টক বেশ মজা লাগল, তিনি বললেন কিভাবে ফুলের ছবি আঁকতে বললেই আমরা সবাই একই রকম গৎবাধা একধরণের ফুলের ছবি আঁকি। আমরা যদি ফুল আঁকা না শিখে একটা ফুল দেখে নিজে নিজে আঁকার চেষ্টা করতাম, একেকজন একেক ভাবে আঁকতাম। ছোটবেলা থেকে এভাবেই আমরা অনুকরণ করতে শিখি যা সৃজনশীলতা নষ্ট করে দেয়।  কফিব্রেকের সময়ে একটা ম্যারেজ প্রোপোজাল পেলাম নাইজেরিয়ান  এক লম্বা কৃষ্ণাঙ্গের  কাছ থেকে :P । পরিচয় হল পাকিস্তানে পি এইচ ডি রত আরেকজন বাংলাদেশী অংশগ্রহনকারীর সাথে। এর পরে ছিল ডিসকাশন  সেশন। সবাই ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমস্যা এবং সমাধান নিয়ে আলোচনা করল। অবাক হয়ে দেলাম সব দেশেই সমস্যাগুলো মোটামোটি একরকম, তার পরেও অনেক ভিন্নতা রয়েছে। যেমন নাইজেরিয়াতে পি এইচ ডি শেষ করে আসলে তার জন্য ভাল চাকুরী আছে, যা বাংলাদেশে নেই।




প্রথম দিনের মত কনফারেন্স শেষে বাসে করে আমাদের হোটেলে পৌঁছে দিল।অনেকক্ষণ হেঁটে বেড়ালাম খালি পায়ে ভূমধ্যসাগরের তীরে। অদ্ভূত সুন্দর অনুভূতি। ফেরার পথে সমুদ্র তীরে বসে কিছুক্ষণ গল্প হল কেনিয়ান কয়েকজন ছেলের সাথে , তারা লবণ সহিষ্ণু মাছের  উপর কাজ করছে। জেনেটিকস,জেনেটিকালি মডিফা্ইড অরগানিজম নিয়ে বিতর্ক, গবেষণা  কালচার  এসব নিয়ে অনেক্ষণ কথা হল। রাতে আমি আর ডালিয়া একটু বের হয়ে KFC থেকে খেয়ে আসলাম।