Wednesday, April 11, 2018

Declluttering memories Lincoln

আজকে বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলাম, লিঙ্কনে সুন্দর ঠান্ডা আবহাওয়া কিন্তু চরম রোদ আর প্রচন্ড বাতাস। পুরো সকাল টা বাসায় কাটিয়ে বিকালের এই ওয়েদার আমি অবশ্য উপভোগ করছিলাম। বাস আসতে এখনো পনের মিনিট বাকি। স্ট্যান্ডে আমি ছাড়া আর এক বয়স্ক ভদ্রমহিলা বসেছিলেন, সাথে অনেক তল্পিতল্পা। আন্দাজ করলাম মেক্সিকান বা দক্ষিণ আমেরিকান কোন দেশের হবেন। একটু আগে তার সঙ্গীকে দেখলাম উঠে পাশেই কোথাও যেতে। মুচকি হাসি বিনিময়ের পরে কথা শুরু হল।  মনে হয় অপেক্ষা করতে করতে  বোরড হয়ে গেসিলেন, আমাকে সঙ্গী পেয়ে অনেক কথা বলা শুরু করলেন। ভদ্রমহিলা কলম্বিয়ান, এখানে অনেক বছর ধরে আছেন। কিছুদূর কথা এগোনোর পরে বললেন, যখন এখানে এসেছি, ২৬ বছর ছিল আমার বয়স, মাত্র ৯৪ পাউন্ড ছিল ওজন অ্যান্ড আই ওয়াজ স্কিনি! ২৬ বছর বয়সী সেই ছিপছিপে তরুণীর কথা চিন্তা করে আপনা থেকেই একটা ভাল লাগা হাসি চলে এল।  তারপরে কলম্বিয়ার গল্প শুরু করলেন, এখানে শীতকালে শুধু তার একটু সমস্যা হয়, আমার হাত ধরল, বলেন কি উষ্ণ! আসলেই অনেক ঠাণ্ডা তাঁর হাত, বাইরের ঠান্ডা বাতাসের ফলাফল। কথা বলতে বলতে তাঁর সঙ্গী ফিরে আসল। বুড়োকে এদেশী মনে হল। আমার সাথে আলাপ করিয়ে দিলেন, জলি বুড়ো  হেসে হাই বলে সঙ্গে সঙ্গে জিগেস করে, আমার সেলফোন টা ব্যবহার করতে পারবে কিনা। মনে মনে একটু চিন্তিত হলেও তাকে বললাম নাম্বারটা বলতে। আন্সারিং মেশিনে মেসেজ রাখল, তাঁর এক বন্ধুর কাছে যাতে ওদের কে রাইড দিতে আসে। তারপরে দেখি পকেট থেকে বিশাল এক চকলেট বের করে আমার হাতে দিচ্ছে :P, বলে এটা তোমার জন্যে। অনেক গাই গুই করলাম, যে দেখ আমি তো মোটা হয়ে যাচ্ছি আর চকলেট খাওয়া কমিয়ে দিচ্ছি (লেম এক্সকিউজ ;)) এই কথা শুনে বুড়োবুড়ি এমন হো হো  হাসি দিল, আমি আর কি বলব ! তারপরে বলা শুরু করল আমার গ্র্যান্ড ডটারও ঠিক এটই বলে। যাই হোক নিলাম চকলেট, দুজনেই খুব খুশি। ওদের বললাম এস শেয়ার করি, আমাকে বলে না এটা তোমার। ঠিক আছে আমার। কি আর করা :)।  আমি জিন নিয়ে স্টাডি করি শুনে দুইজনেই মহা খুশি। বুড়োর বয়স ৯৩ বছর অ্যান্ড হি লস্ট হিজ কিডনী। এজন্যে এখন কাজ করতে পারেনা। মহিলা হছে তার ল্যান্ডলেডি। তারপরে তার গ্র্যান্ডফাদার এর গল্প শুরু করল, যে নাকি আইরিশ অরিজিন ছিল। আমাকে বুঝাল nelson আর nelsen দুই বানানের নামের অরিজিন এর ডিফারেন্স টা  কি। কথা বলতে বলতে দেখি সিগারেট ধরায়, আমি আঁতেল এর মত বললাম, তোমার কিন্তু স্মোক করাটা ঠিক হচ্ছেনা। মনে হল এটা বুড়ির ফেভারিট টপিক, সেও সঙ্গে সঙ্গে সায় দিয়ে বলল  বুড়ো নাকি প্রতিদিন বলে যে আজকেই ছেড়ে দিবে। কিন্তু ঐ বলা পর্যন্তই। আমাদের কথার কাছে পরাজিত হয়ে শেষ মেশ বেচারা সিগারেট ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলে যাও তোমার জন্যে ছেঁড়ে দিলাম :P , বলে পকেট থেকে ভাপরাইজার বের করে টানা শুরু করল। আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানালাম। এর পরে সে জিজ্ঞেস করে, বল তো আমার ল্যান্ডলেডির বয়স কত? আমি বললাম ৬৫? শুনে আবার দুজনে হাসি। সে নাকি ৮০ বছর বয়সী। আরও কিছুক্ষ্ণ কথা চলল, বলতে বলতে দেখি ওদের ফ্রেন্ড যাকে ফোন করেছিল, সে চলে এসেছে। বাস ও চলে আসল একি টাইমে। বাই বলে উঠে গেলাম বাসে। সাথে থাকল ভিন্ দেশি দুই বুড়োবুড়ির স্নেহভরা সুন্দর বিকালের স্মৃতি।

No comments:

Post a Comment